সম্পূর্ণ আলোচনাগুলো পাওয়া যাচ্ছে না, এখানে শুধু কিছু অংশ আছে
ওঁকে যেভাবে চরিত্রটা বুঝিয়েছিলাম, তার থেকেও অনেক অনেক ভালো করেছিল মহুয়া। একটি চরিত্রের কতটা গভীরে ঢোকা যায় সেটা ওর অভিনয়েই প্রকাশ পেয়েছিল। রোলটি করে দর্শকেরও প্রচুর প্রশংসা পেয়েছিল। ‘আমার দেখা অন্যতম সেরা অভিনেত্রী। ওাহারা! ওর বয়সটাও তো দেখতে হবে।’
মহুয়ার অভিনয়ের প্রসঙ্গে তরুণ মজুমদারের ছবি ‘দাদার কীর্তি’-র কথা অবশ্যই বলা প্রয়োজন। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাহিনী। এ ছবিতেও সরস্বতী মুখোপাধ্যায়ের চরিত্রে মহুয়ার অভিনয় দর্শকের প্রশংসা লাভ করে। আসলে কোনও রোলেই দর্শকদের আশাহত করেননি অভিনেত্রী। আর এটাই ছিল তাঁর অভিনয়ের সবথেকে বড় গুণ। সাধারণ একটি চরিত্রকেও অন্য পর্যায়ে অনায়াসে তুলে নিতে পারতেন মহুয়া। ‘দাদার কীর্তি’-তে তাপস পাল ছিলেন তাঁর বিপরীতে। ছবিটি ২৮.১১.৮০-তে মুক্তি পেয়েছিল। বলা বাহুল্য, এ ছবিটিও খুব ভালো চলেছিল। তাপস-মহুয়া জুটি ‘অনুরাগের ছোঁয়া’-ও বক্স অফিসে তুমুল সাড়া ফেলেছিল। টাইটেল ভূমিকায় অভিনয় করেন মহুয়া। ‘এই তো স্বর্গের’ নামে আরেকটি ছবিতেও টাইটেল ভূমিকায় ছিলেন তিনি। মারা যাওয়ার পরেও মহুয়ার বেশ কয়েকটি ছবি মুক্তি পায়।
মহুয়ার আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ছবি হল ‘শেফালিকা’, ‘কবিতা’, ‘দৌড়’, ‘উপলব্ধি’, ‘সাহেব’, ‘পাহাড়ী ফুল’, ‘মাদার’, ‘সুবর্ণগোলক’, ‘প্রতিশোধ’, ‘কপালকুণ্ডলা’, ‘আজ কাল পরশু-র গল্প’, ‘অমৃত কুম্ভের সন্ধানে’, ‘পারমা’, ‘আশীর্বাদ’, ‘রাজপুরুষ’ প্রভৃতি। ‘দৌড়’ ও ‘শেফালিকা’ দুটি ছবির পরিচালকই শঙ্কর ভট্টাচার্য। রবীন্দ্রনাথের ‘শেষরক্ষা’ ছবিতে ইন্দুমতীর চরিত্রে অভিনয় করে বি এফ জে এ পুরস্কার পেয়েছিলেন মহুয়া। তবে সবসময় বলতেন, ‘দর্শকদের ভালোবাসাই আমার সবথেকে বড় পুরস্কার।’ তেরো বছরে প্রায় একশোর কাছাকাছি ছবিতে অভিনয় করেছেন। যা একটি রেকর্ড।
১৯৭৬ সালের ২মে তিলক চক্রবর্তীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মহুয়া। এক সময় মাষ্টার তিলক নামে কয়েকটি বাংলা ছবিতে অভিনয় করেন। তাঁরাও একটি পুত্রসন্তান। ডাকনাম গোলা, ভালো নাম তমাল। মহুয়ার নয়নের মণি ছিল গোলা। একবার শুটিংয়ের অবসরে আমাকে বলেছিলেন, ‘আমার ছেলের জন্যই আমাকে আরও অনেকদিন বাঁচতে হবে। গোলাকে পড়াশোনা করিয়ে মানুষের মতো মানুষ করতে হবে। ওর বিয়ে দেব। ঠাকুরমা হওয়ার পরই যেন আমার পৃথিবী ছাড়ার ডাক আসে।’ মহুয়ার এই কথাগুলোর অনুরণন আজও হয় আমার মনে। অদৃষ্টের নিষ্ঠুর পরিহাসে সবকিছু ছেড়ে তাঁকে চলে যেতে হল। মহুয়া যখন মারা যান তখন তাঁর ছেলের বয়স মাত্র সাড়ে চার। আজ পূর্ণ বয়সের এক যুবক। মায়ের কথা নিশ্চয়ই তমালের মনে পড়ে। মহুয়া মারা যাওয়ার ঠিক এক মাসের মাথায় তাঁর ‘আশীর্বাদ’ ছবিটি ২২.৮.৮৬-তে রূপবাণী, অরুণা, ভারতী সহ অনেকগুলো প্রেক্ষাগৃহে একযোগে মুক্তি পায়। পরিচালক বীরেশ চট্টোপাধ্যায় সেই সময় মহুয়ার মৃত্যুতে শোকে মৃয়মান বজ্রাহত। বলার অপেক্ষা
সেই সময় এই সংলাপের সুর ধরে বহু মানুষকে বাসে-ট্রামে আলোচনা করতে শুনেছি— মহুয়া রায়চৌধুরী কি সত্যিই পারিবারিক জীবনে মনোকষ্টে ছিলেন?
মারা যাওয়ার আগের দিন বিকেলে মহুয়ার সঙ্গে নতুন চিত্রনাট্য নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েছিলেন বীরেশ চট্টোপাধ্যায়। বীরেশদা আমাকে বলেছিলেন, ‘মিষ্টি আলিপুরের যে ফ্ল্যাটে মহুয়া থাকত তার ওপরের ফ্ল্যাটে থাকতেন পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী। পরদিন প্রস্তাবিত ছবির নামে বিমর্ষ ছিল মহুয়া। মহুয়া বলল, চিন্তা কোরো না বীরেশদা সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে। কিন্তু কেন জানি না ওঁর মুখ গম্ভীর লাগছিল। মুখের সেই হাসি দেখতে পেলাম না। ওক্ অদ্ভুত অস্থির লাগছিল ওকে। তিলকও ঘরে ছিল। কিন্তু আমাকে যেন চিনতেই পারল না। পরদিনই মহুয়ার আগুনে পুড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কথা শুনলাম। মহুয়ার চোখো দিনের শুটিং বাকি ছিল। এ অবস্থায় ছবি রিলিজ করা কখনওই সম্ভব নয়। প্রযোজক প্রবীর মজুমদারের তো মাথায় হাত। ছবিটি অনেক কায়দা করে কমপ্লিট করলাম। মুক্তিও পেল। দারুণ চলেছিল। মহুয়া ছিল সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের ঘরানার শিল্পী।’ ১৯৮৬ সালের ১২-১৩ জুলাইয়ের মধ্যরাত। নিজের ফ্ল্যাটেই আগুনে রহস্যজনকভাবে পুড়ে গেলেন মহুয়া। বাক্ শক্তি শূন্য। তাঁকে ভর্তি করা হল ক্যালকাটা হাসপাতালে। দশ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন মহুয়া। বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম সফল এক নায়িকার বর্ণময় জীবনের এখানেই ইতি।
পুলিশ তদন্ত শুরু করল। মহুয়ার বাড়ি থেকে বলা হল, স্টোভ সরাতে গিয়ে হঠাৎ স্টোভ ফেটে গায়ে আগুন ধরে যায় তাঁর। কিন্তু পরে পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত হয় যে, স্টোভ ফেটে গায়ে আগুন লাগার ব্যাপারটা পুরোপুরি বানানো। কারণ, সেটে এক ফোঁটাও কেরোসিন তেল ছিল না। বরং মহুয়াকে যখন হাসপাতালে আনা হয় সেই সময় এমার্জেন্সি বিভাগের চিকিৎসকরা তাঁর সারা শরীর থেকে কেরোসিনের গন্ধ পেয়েছিলেন। মহুয়ার মৃত্যু নিয়ে একবার অভিনেতা ও তৃণমূল বিধায়ক চিরঞ্জিবের সাথে আমার কথা হয়। তাঁরা একসঙ্গে কয়েকটি ছবিতে কাজ করেছিলেন। চিরঞ্জিব আমাকে বলেছিলেন, ‘মহুয়ার মতো মেয়ে নিজে থেকে মরতে পারে না। যতদূর সম্ভব কোনও বড় রহস্য আছে। বা ওর মৃত্যুর সঙ্গে তিলকের ভাগ্য গড়ে উঠেছে?’
মহুয়ার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অভিনেত্রী শ্রীমতী ভদ্র ঘোষাল এই দুর্ঘটনার পর একের পর বার হাসপাতালে গিয়েছেন। তাঁর মতে এটি নিশ্চিতই দুর্ঘটনা। এমনকী মহুয়াও সি আই ডি অফিসারদের মৃত্যুকালীন জবানবন্দি দিয়েছেন— তাঁর গায়ে আগুন লাগাটা দুর্ঘটনা ছাড়া কিচ্ছু নয়। তবে প্রশ্ন একটাই— কাকে বাঁচাতে গিয়ে আর জীবন বাঁচাই বা মহুয়া এই জবানবন্দি দিতে বাধ্য হন?
বলেছিল, ‘আমার দেখা বাংলা ছবির অন্যতম প্রতিভাময়ী অভিনেত্রী মহুয়া। ওই বয়সে ওর মতো অভিনেত্রী টালিগঞ্জে কেউ ছিল না। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার বেশিদিন বাঁচল না। যদি বেঁচে থাকত আরও কত কী যে করে দেখাত কেউ কল্পনাও করতে পারবে না। একের পর এক ছবিতে ওর ভূয়সীপ্রশংসা কাজ গোটা বাংলা ইন্ডাস্ট্রিকে একেবারে হতবাক করে দিয়েছিল। মহুয়ার শটগুলো মনিটরে দেখে ভাবতাম, ওর মতো আমি অভিনয় করতে পারি না কেন? ছোট্ট একটা উদাহরণ দিচ্ছি। কোনও কিছু আমাদের পছন্দ না হলে কখনও কখনও এক ধরনের বিরক্তি আমাদের চোখেমুখে ছড়িয়ে পড়ে। কণ্ঠস্বরে পরিবর্তন ঘটে। আমি জানি না মহুয়া এটা কীভাবে রপ্ত করেছিল, তবে এরকম কোনও সিন থাকলে কয়েক মুহূর্তের মধ্যে ওর চেহারাটাই আমূল বদলে যেত। এটা পারতেন উত্তমদা, সুচিত্রা সেন, সাবিত্রীদির মতো হাতেগোনা কয়েকজন। আসলে ব্যক্তিগত জীবনে মহুয়ার প্রচুর মানসিক জ্বালা-যন্ত্রণা ছিল। যেটা কোনও দিনই কারও কাছে মন খুলে বলতে পারেনি। সেটা প্রকাশ পেত ওর অভিনয়ে। মহুয়ার ক্ষতি অনেকেই অনেকভাবে করেছে। মানুষকে বিশ্বাস করে ঠকেছে। কিন্তু কারও প্রতি অনুযোগ ছিল না ওর।’
ছবি নিয়েই পার্থর সঙ্গে একবার ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল মহুয়ার। জিজ্ঞাসা করলাম— তোমাদের ভুল বোঝাবুঝি কীভাবে মিটল? বলল, ‘সে অনেক কথা। সংক্ষেপেই বলি, তখন আমি কিছুদিন হল বিয়ে করেছি। একদিন মহুয়া আমাদের ফ্ল্যাটে এসে আমার স্ত্রীকে বলল, তোমাদের ফ্ল্যাটে আমাকে দিনসাতেক থাকতে দেবে? আমার বাড়ির এমনই পরিবেশ যে সেখানে আর থাকতে পারছি না। ওর প্রায় কাঁদো কাঁদো মুখ দেখে আমার খুব খারাপ লেগেছিল। সেই সময় আমরা লাঞ্চ করছিলাম। ইলিশ মাছ দেখে মহুয়াও বলল, আমিও ইলিশ মাছের ঝোল দিয়ে ভাত খাব। ওর প্রিয় মাছ ইলিশ। খুব তৃপ্তি করে খেল। আমাকে বলেছিল, পার্থ তুমি কিছু মনে কোরো না। ‘অবশেষে’ ছবিতে কাজ না করাটা আমার ভুল ডিসিসন। বাস, আমারও ওর ওপর থেকে সব অভিমান দূর হয়ে গেল। মহুয়া খুব সরল-সোজা মানুষ ছিল।’ পার্থ বলল, ‘মহুয়াকে নিয়ে একটা ঘটনার কথা না বলে থাকতে পারছি না। আনোয়ার শা রোডে এন টি টু-তে (নিউ থিয়েটার্স দু’নম্বর স্টুডিও) ‘বেহুলা লখীন্দর’ ছবির শুটিং হচ্ছিল। বেহুলার ভূমিকায় মহুয়া। ও আমাকে লাঞ্চে ডেকেছিল। সেদিন লাঞ্চের নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে গিয়ে একটা আশ্চর্য ঘটনার সাক্ষী হয়ে রইলাম। এই ঘটনা আমার মনে কিছুটা আতঙ্কেরও সৃষ্টি করেছিল। তখন সবে শুটিং-ব্রেক হয়েছে। ফ্লোরে গিয়ে দেখলাম, মহুয়ার হাতে কয়েকটা সরু সরু একেবারে জ্যান্ত সাপ! আমাকে দেখে খুশি হয়ে বলল, তুমি এসেছ। সাপগুলোকে দু’হাতে তুলে আমাকে দেখিয়ে হেসে বলল, ভয় পেয়ো না। এগুলোর বিষ নেই। এরপর দেখি, জিভ বার করে সাপগুলোর মুখে ছোঁয়াচ্ছে। চুমু খাচ্ছে। মহুয়ার এসব কাণ্ডকারখানা দেখে তো আমি তাজ্জব! ভয় পাওয়াই কথা। বাইচান্স বিষ থাকলে তখন কী হবে? মহুয়ার কিন্তু কোনও তাপ-উত্তাপ নেই। ও হাসছে আর সাপগুলোকে আদর করছে। পরে লাঞ্চ-ব্রেক হতেই প্রোডাকশনের লোক এসে সাপগুলো নিয়ে গেল। এই হল মহুয়া। কোনও কিছুতেই যেন পরোয়া করত না। ওর মৃত্যুতে
একের পর এক ছবির সাফল্য আর উত্তরোত্তর জনপ্রিয়তা কিন্তু মহুয়ার মাথা ঘুরিয়ে দেয়নি। নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েটি দু’হাতে বিস্তর টাকা-পয়সা রোজগার করলেও তাঁর স্বাভাবিক আচার- আচরণে তার বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়েনি। পাশের বাড়ির মেয়ের একটা ইমেজ তাঁর বরাবরই ছিল দর্শকদের মনে। আম জনতার এই অকৃপণ ভালোবাসাই ছিল মহুয়ার আসল চালিকা শক্তি। দর্শকরা চিরকালই তাঁকে বিশেষ স্নেহের চোখেই দেখেছেন। মহুয়ার গানে লিপ দেওয়ার ক্ষমতা ছিল অসাধারণ। আসলে ছোটবেলা থেকেই গানের তালে তালে তাঁর পা দুটোও নেচে উঠত। তাঁর পায়ের ছন্দ, চোখ-মুখের এক্সপ্রেশনে এক অন্য শিল্প ধরা পড়ত। তাঁর সমসাময়িক অভিনেত্রীদের মধ্যে একমাত্র দেবশ্রী রায় ছাড়া নাচ তেমন কেউ জানতেন না। অবশ্য নায়িকা হিসেবে দেবশ্রীর উত্থান মহুয়া চিরবিদায় নেওয়ার পরই। ক্লাসিক্যাল ও মডার্ন ডান্স দুটোতেই সমান পারদর্শিনী ছিলেন মহুয়া। তাঁর আরও একটা বিশেষ গুণ, সায়লেন্ট অ্যাক্টিং। ‘শ্রীমান পৃথ্বীরাজ’-এ মহুয়াকে দিয়ে এই নীরব অভিনয়টাই করিয়েছিলেন তরুণ মজুমদার। এ ছবিতে মহুয়ার মতো একেবারে আনকোরা অভিনেত্রী ‘সখী ভাবনা কাহারে বলে’ রবীন্দ্রসংগীতে কী সুন্দরই না লিপ দিয়েছিলেন। আবার ‘যে যেখানে দাঁড়িয়ে’ ছবিতে জিপের মধ্যে বসে গাইছেন ‘ওই নীল দিগন্তে ফুলের আগুন লাগল’ কিংবা শুধু রবীন্দ্রসংগীত নয়, এমনি বহু গানও তাঁর লিপে পর্দায় অন্য আবেদন বয়ে এনেছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, মহুয়া ছিলেন বর্ণ আর্টিস্ট। জাত শিল্পী। এরকম ন্যাচারাল অ্যাক্ট্রেস বাংলা ছবিতে খুব বেশি আসেননি। তবে একথাও ঠিক, বেশ কিছু আজেবাজে ছবিতে কাজ করে মহুয়া তাঁর অভিনয় প্রতিভার অপচয় ঘটিয়েছেন। তাঁর নামেই এক সময় বাংলা ছবি চলত।
উত্তমকুমার মারা যাওয়ার কয়েক বছর পর বাংলা ছবির মরা গাঙে আবারও জোয়ারের স্রোত এনেছিলেন মহুয়াই। ’৮৪-র ১৫ জুন মহুয়া অভিনীত ‘লাল গোলাপ’ ছবিটির হাত ধরেই বাংলা ছবির বক্স অফিস পুনরায় চাঙ্গা হয়ে ওঠে। আর সে বছরই ৭ ডিসেম্বর প্রয়াত পরিচালক অঞ্জন চৌধুরীর ‘শত্রু’ বক্স অফিসের সমস্ত হিসেব-নিকেশ উলটে সুপার-ডুপার হয়। এ ছবিতেও মহুয়ার উজ্জ্বল উপস্থিতি ভোলার নয়। ১৯৮৪ সালেই দূরদর্শনের ন্যাশনাল নেটওয়ার্কের জন্য তৈরি তপন সিংহের ‘আদমি অউর ঔরত’ ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রতিভার অনন্য নজির গড়েন মহুয়া। এক দেহাতীর ভূমিকায় অনবদ্য অভিনয়! তাঁর বিপরীতে ছিলেন অমল পালেকর। মহুয়া সম্পর্কে তপনদার কথাগুলো আজও আমার স্মরণে আছে। ‘মহুয়ার মতো শিল্পী বাংলা ছবির সম্পদ ছিল। বিরল প্রতিভার অধিকারিনী। মাঝে মাঝে স্মিতা মানে অভিনেত্রী স্মিতা পাতিলের কথা আমার মনে পড়ে। দেখো স্মিতাও তো কত তাড়াতাড়ি চলে গেল। ওদের দুজনের অভিনয়, মৃত্যু সবকিছুর মধ্যেই অদ্ভুত একটা মিল যেন খুঁজে পাই। মহুয়া যদি বেঁচে থাকত অভিনেত্রী হিসেবে আজ এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছে যেত। ‘আদমি অউর ঔরত’-এর কথা কী আর বলব।





.jpg)










