মহুয়া রায়চৌধুরী এবং প্রতিবেশীদের সাথে তার সামাজিক সম্পর্ক

 আমরা জানি যে চলচ্চিত্রের সেলিব্রিটিরা তাদের প্রতিবেশীদের সাথে দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করেন, তা 50 বছর আগে হোক বা এখন। তারা খুব কমই সামাজিক সমাবেশে যোগ দেয় যদি এটি একটি ব্যবসায়িক চুক্তি না হয়।



অনেকের মধ্যে আলাদা ছিলেন অভিনেত্রী মহুয়া রায়চৌধুরী। এমনকি সে যখন শিখরে ছিলেন, তখনও তিনি মাটির কাছাকাছি ছিলেন। এমন অনেক উদাহরণ আছে যেখানে আমরা দেখতে পাই যে মহুয়া রায়চৌধুরী তার প্রতিবেশীদের সাথে কতটা ঘনিষ্ঠ ছিলেন।

একটি বিবাহ বউভাত সম্পর্কিত সমাবেশ যেখানে মহুয়াকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং কীভাবে তিনি অংশগ্রহণ করেছিলেন তা নীচে দেওয়া হল। বর্ণনাটি একজনের ফেসবুক পোস্ট থেকে নেওয়া।

মহুয়া রায়চৌধুরীকে কাছ থেকে দেখার স্মৃতিচারণ করেছেন শিব মুখোপাধ্যায়।
১৯৮২ সাল। পিসতুতো দাদার বিয়ে। উলটো দিকের নবনির্মিত ফ্ল্যাট বাড়ির এক তলার বাসিন্দা মহুয়া দি, পরিবার সহ।
বউভাতের দিন দুপুরে মহুয়াদি এলো। দুপুরের খাওয়াদাওয়াতে আমরাই পরিবেশন করেছিলাম। আজকের নায়িকাদের মতো নয়, সব কিছুই খেলো।এমনকি মিস্টিও! খাওয়ার সময় সবার সাথে হাসাহাসি, খাবার পর পিসেমশাইয়ের থেকে পান নিয়ে মুখে দিয়ে জমাটি আড্ডা সবার সাথে।
যাবার সময় বলে গেলো, রাতে ফিরতে দেরি হবে। তাই আসবে না।

তখন আমি ক্লাস টুয়েলভে। দিদি -ভাইয়ের সম্পর্কটা সদ্য শুরু হয়েছে, হঠাৎ দিদি নেই হয়ে গেলো!
আমার বাড়ির ৬টা বাডি পরে মহুয়াদির বাড়ি। কিন্তু, পুলিশের জন্য পিসির বাড়িতে পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছতে পারিনি!

মহুয়া সম্পর্কিত আমরা আজ অবধি যা জানি না

 মহুয়া রায়চৌধুরীর মৃত্যুর 37 বছর পেরিয়ে গেলেও অভিনেত্রীকে নিয়ে অনেক প্রশ্নের উত্তর আজও পাওয়া যায়নি। আমরা সেই অজানা তথ্যগুলি তুলে ধরার চেষ্টা করব যা সম্ভবত অভিনেত্রীর কাছের লোকেরা জানেন।


বিভিন্ন উৎস থেকে আমরা মহুয়া রায়চৌধুরীর স্কুলে পড়া এবং কেন সে তার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে ব্যর্থ হয়েছেন সে সম্পর্কে জানতে পেরেছি। তার পারিবারিক পটভূমি নিয়ে মিডিয়ায় অনেক ভুয়া খবর রয়েছে। মহুয়া একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের অন্তর্গত এবং তার মা পিএন্ডটি বিভাগের একজন কর্মচারী ছিলেন। মহুয়ার বাবা একজন নৃত্য পরিচালক ছিলেন এবং সম্ভবত তিনি তেমন সফল ছিলেন না। মহুয়ার এক ভাই বোন ছিল। মহুয়া রায়চৌধুরী ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। মহুয়ার বড় ভাইয়ের নাম পিনাকী আর বড় বোনের নাম শান্তা।

প্রথমে পিনাকী রায়চৌধুরীর কথাই ধরা যাক। অনেক প্রমাণ থেকে এটা স্পষ্ট যে মহুয়ার তার দাদার সাথে ঘনিষ্ঠ বন্ধন ছিল। পিনাকী বাবুর বন্ধুদের সাথে মহুয়ার বন্ধুত্ব ছিল। এমনকি কৈশোরে মহুয়া তার দাদার বন্ধুদের সাথে ফুটবল খেলতেন। মহুয়া ইস্ট বেঙ্গলের একজন কট্টর সমর্থক ছিলেন। মহুয়া রায়চৌধুরীর মৃত্যুকালীন জবানবন্দি নেন এনসি বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেপুটি সুপারিন্টেন্ডেণ্ট পুলিশ, সিআইডি এবং এএন দুবে, ইন্সপেক্টর। সাক্ষী হিসেবে সই করেন দাদা পিনাকী রায়চৌধুরী এবং সিস্টার ঊষা। উপস্থিত ছিলেন রত্না ঘোষাল। মহুয়া রায়চৌধুরীর পারলৌকিক কাজের সময় পিনাকী বাবু উপস্থিত ছিলেন। 

মহুয়া রায়চৌধুরীর মৃত্যুর পর পিনাকী রায়চৌধুরীর কোন খবর পাওয়া যায়না। পিনাকী বাবুর বন্ধু মহুয়া রায়চৌধুরীকে নিয়ে লিখছে কিন্তু মহুয়ার দাদা সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণা নেই। সম্ভবত পিনাকী বাবু আসানসোলে বসতি স্থাপন করেছিলেন কারণ তার ছেলে আসানসোল রামকৃষ্ণ মিশন এবং আসানসোল বিবি কলেজে পড়াশোনা করেছিল। পিনাকী বাবুর ছেলে জয়ন্ত রায়চৌধুরী বর্তমানে আসানসোলে থাকেন এবং তিনি নিজের ব্যবসায় লিপ্ত। পিনাকী বাবু সম্পর্কে বর্তমান কোন তথ্য পাওয়া যায় না।

মহুয়া রায়চৌধুরীর দিদি শান্তার বিয়ে হয়েছিল চিত্তরঞ্জনে এবং তিনি সেখানেই থাকতেন। মহুয়া অবশ্যই চিত্তরঞ্জনকে বেশ কয়েকবার দেখতে গিয়েছিলেন কিন্তু আমাদের কাছে একটি প্রমাণ আছে যখন অভিনেত্রী শ্রীমান পৃথিরাজের মুক্তির আগে চিত্তরঞ্জনে ছিলেন। তা ছাড়া তার দিদির সাথে তার যোগাযোগের কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। মহুয়ার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় শান্তা দেবী উপস্থিত ছিলেন কিনা তা জানা যায়নি। মহুয়া রায়চৌধুরীর মায়ের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যেতে পারে। শান্তা দেবীর বর্তমান তথ্য অজানা।

একটা প্রশ্ন আসে, মহুয়া রায়চৌধুরীর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বন্ধন কেমন ছিল? মহুয়া রায়চৌধুরী ছিলেন কোমল ও উদার মনের  মহিলা। প্রত্যেক সহ-অভিনেতা, পরিচালক এবং সিনিয়ররা মহুয়া রায়চৌধুরী সম্পর্কে একথা বলেছেন। প্রবীণ অভিনেতা বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় বলেছেন যে মহুয়া রায়চৌধুরী তার পরিবারের জন্য অনেক অবদান রেখেছেন কিন্তু কিছুই পাননি।

মহুয়া রায়চৌধুরীর মেন্টর সন্ধ্যা রায় একবার বলেছিলেন 'মহুয়া এতোটা সরল না হোলে পারতো'। মহুয়ার আরেক সহ-অভিনেতা কৌশিক ব্যানার্জি বলেন, 'মহুয়ার পরিবারের সদস্য, ফ্রেন্ড সার্কেল, সবই ছিল গন্ডগোলের'। মহুয়া রায়চৌধুরীর পরিবার মানে তার স্বামী তিলক, তার বাবা নীলাঞ্জন বাবু এবং নিজে। তমাল রায়চৌধুরী তখন নিছক শিশু। পরিবারে আর কে কে ছিল? মাঝে মাঝে আমরা একজন 'কাকা' সম্পর্কে জানতে পারি কিন্তু তিনি কে ছিলেন?

জানা যায়, মহুয়া রায়চৌধুরী মাধবী মুখোপাধ্যায় এবং সন্ধ্যা রায়ের খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। কিন্তু তারা তার থেকে সিনিয়র ছিলেন। রত্না ঘোষাল তার অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিলেন কিন্তু অন্য বন্ধু কারা? দীপঙ্কর দে সর্বদা মহুয়া রায়চৌধুরী নিয়ে আলোচনা এড়াতে চেষ্টা করেন। 'তারাদের শেষ তর্পণ'-এ দীপঙ্কর দে ছাড়া সমস্ত চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব 'ব্যক্তি মহুয়া' নিয়ে কথা বলেছেন। দীপঙ্কর দে বলেন, 'মহুয়া ছিলেন একজন স্বতঃস্ফূর্ত অভিনেত্রী, যিনি মুহুর্তের মধ্যে কাঁদতে এবং হাসতে পারতো এবং কান্নার দৃশ্যের জন্য গ্লিসারিনের প্রয়োজন নেই।

চলচ্চিত্র নির্মাতা হরনাথ চক্রবর্তী 'তারাদের শেষ তর্পণ'-এ বলেছেন, মহুয়া রায়চৌধুরী খুব সরল ও নরম মনের মানুষ ছিলেন। এমনকি যখন তিনি টলিউডে শীর্ষ তারকা, তখনও তার আচরণ ছিল আচরণ ছিল পাশের বাড়ির প্রতিবেশীর মতো। হরনাথ বাবু বলেন, স্টুডিওতে এক গ্রীষ্মের শুটিংয়ের ঘটনা। মহুয়া রায়চৌধুরী যখন শুটিং ফ্লোরে আসেন কলাকুশলীরা বললেন, 'দিদি, আজ খুব গরম'। মহুয়া রায়চৌধুরী তৎক্ষণাৎ প্রত্যেকের জন্য কোল্ড ড্রিঙ্কস অর্ডার করলেন। মহুয়া ছিল পশুপ্রেমী। কলকাতার স্টুডিওর চারপাশের কুকুররা তার কাছ থেকে বিস্কুট ইত্যাদি খাবার পেত। মহুয়া যখনই স্টুডিওতে আসত, কুকুররা তার চারপাশে 'রিং' তৈরি করে দাঁড়িয়ে থাকত।

হরনাথ চক্রবর্তী আরও জানান, একবার শুটিংয়ের সময় মহুয়া তার শুটিংয়ের ফাঁকে একটু ঘুমিয়ে নেন শুটিং ফ্লোর এ। হরনাথবাবু যখন জিজ্ঞেস করলেন, রাতে ঘুমাননি কি না, মহুয়ার উত্তর ছিল হৃদয়বিদারক। মহুয়া বলেন, 'দুই শিফটে কাজ করি, বাড়িতে কম সময় থাকাই ভালো'।

মৃত্যুর পর মহুয়া রায়চৌধুরীর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় 'টেকনিশিয়ান স্টুডিও' তে। মহুয়ার শরীরটা পুরো ঢাকা ছিল কিন্তু কুকুরগুলো চোখে জল নিয়ে তার শরীরের কাছে দাঁড়িয়ে ছিল।

অভিমান ছবির শুটিং চলাকালীন, মহুয়া রায়চৌধুরী রঞ্জিত মল্লিককে রবিবারের শুটিংয়ের জন্য জোর করতেন। পরপর দু-এক রবিবারের পর রঞ্জিত মল্লিক বিরক্ত হয়ে পরিচালককে কারণ জানতে চান। রঞ্জিত মল্লিক এটা জেনে খুব দুঃখ পেয়েছিলেন যে মহুয়া রবিবার বাড়িতে থাকতে চায় না এবং সে কারণেই সে রবিবারের শুটিং করতে চায়।

অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তী বলেন, 'মহুয়াকে বাঁচিয়ে রাখা আমাদের কর্তব্য ছিল'। এটা কি এমন কিছু নির্দেশ করে যে মহুয়া প্রতিটি কোণ থেকে বড় সমস্যায় পড়েছিল এবং তার সহকর্মীরা শুধু উপেক্ষা করেছিল?

তিলক চক্রবর্তীর দাদা অলোক চক্রবর্তীর মহুয়া এবং তিলকের সাথে ভাল যোগাযোগ ছিল। চলচ্চিত্র রিপোর্টার রবি বসু লেখায় বলা হয়েছে যে অলোক বাবু, তিলক চক্রবর্তীর মঞ্চের কাজকর্ম দেখাশোনা করতেন, তিলক ছিলেন একজন গায়ক। অলোক চক্রবর্তী অভিনেত্রীর ভাড়া করা ফ্ল্যাটে মহুয়া রায়চৌধুরীর পারলৌকিক ক্রিয়ার আয়োজন করেছিলেন। খবরের কাগজ থেকে পাওয়া যায় যে নীলাঞ্জন রায়চৌধুরী তার মেয়ের শ্রাদ্ধের আয়োজন করতে চেয়েছিলেন কিন্তু অলোক চক্রবর্তী এর বিরোধিতা করেন। এই সব প্রমাণ করে যে অলোক চক্রবর্তী তার ভাইয়ের উপর একটি নিয়ন্ত্রণ ছিল কিন্তু মহুয়ার মৃত্যুর পরে তার ভূমিকা কী ছিল তা জানা যায়নি।

আমরা উত্তরের জন্য অপেক্ষা করব। তারা যা জানেন তা শেয়ার করার জন্য দর্শকদের অনুরোধ করছি।


এক ব্যক্তির হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া কথা যিনি মহুয়া রায়চৌধুরীকে তার কৈশোর থেকে চেনেন

 কমল বন্দ্যোপাধ্যায়। শিপ্রা থেকে সোনালী, সোনালী থেকে মহুয়া হয়ে ওঠার পর্বে সে মহুয়াকে জানে  উনি স্মৃতিচারণ করছেন সেই সব সোনালী রাংতায় মোড়া দিনগুলোর :



'সত্তর আশি দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত বাংলা চলচ্চিত্র জগতে " ধূমকেতু " নায়িকা মহুয়া রায়চৌধুরী । মহুয়াকে নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলবেন আমি জানি। কিন্তু, আমার কাহিনীটা পুরোটাই অন্য ধাঁচের হয়ে যাবে, আমি এই বিষয়ে নিশ্চিত। দেরি না করে বলা শুরু করে দিই।

আমাদের পাঠক্রম ছিল 11+3 বছরের ডিগ্রি কোর্স। ক্লাস ইলেভেনে সরাসরি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ব্যবস্থা ছিল। ক্লাস নাইন থেকে বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও কলা বিভাগে পড়ার জন্য পাঠক্রম চালু ছিল। বিজ্ঞান ও কলা বিভাগ সব স্কুলেই মোটামুটি ভাবে পড়ানো হলেও বাণিজ্য বিভাগের লেখাপড়া সব স্কুলে সহজলভ্য ছিল না। তাই, যেসব স্কুলে নবম শ্রেণীতে বাণিজ্য ( Commerce ) বিভাগ ছিল সেসব স্কুলে নবম শ্রেণীতে কমার্স পড়তে আগ্রহী এরকম বহু ছাত্র অন্য স্কুল থেকে এসে নতুন করে ভর্তি হতো, কেননা সেসব স্কুলে কমার্স পড়ার সুযোগ ছিল না। এরকম ভাবেই আমাদের স্কুলে অন্যান্য স্কুলের বহু ছাত্র এসে ভর্তি হয়েছিল । সালটা ছিল 1969। আমি কমার্স নিয়েছিলাম । সেই বছরে অন্য এক স্কুল থেকে আসা এক সহপাঠীর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে উঠলো, যার নাম ছিল পিনাকী রায়চৌধুরী।

পিনাকীর মা কলকাতা টেলিফোন বিভাগে চাকরি করতেন। দমদম 57 টেলিফোন এক্সচেঞ্জ কোয়ার্টারে ওরা থাকতেন। সেই পিনাকীর ছোট বোনের নাম ছিল শিপ্রা রায়চৌধুরী। ডাকনাম ছিল সোনালী। মেয়েটা ছিল ডানপিটে, নাচ করতে খুব ভালোবাসতো । বিভিন্ন জলসায় নাচের অনুষ্ঠানও করতো, সোনালী নাম দিয়েই। কেন জানি না, আমাদের চার পাঁচ বন্ধুর সঙ্গে ওর বেশ ভালো সখ্যতা গড়ে উঠলো। আমাকে " দাদা" বলে ডাকতো, আমিও একটা নামে ওকে ডাকতাম। 

1971 সালের কোনো একদিন জানতে পারলাম শিপ্রা বাংলা ছবিতে নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছে। পরিচালক তরুণ মজুমদার, ছবির নাম " শ্রীমান পৃথ্বীরাজ" । সেলুলয়েডের পাতায় শিপ্রা নাম পরিবর্তিত হয়ে হয়ে উঠলো " মহুয়া " । হলফ করে বলতে পারি, আমার সঙ্গে ওঁর করা ব্যবহারে প্রথমে কিছুটা আড়ষ্ঠতা থাকলেও পরে জলবৎ তরলম্ হয়ে উঠেছিল। রীতিমতো " তুই- তোকারি "র সম্পর্ক ছিল। 1982 সাল পর্যন্ত যথেষ্ট যোগাযোগ ছিল। দুটো ঘটনা বলি।

এক, 1973 সালের 5 মার্চ আমার উপনয়ন ( পৈতে ) ছিল। উনি ততদিনে নায়িকা হয়ে গেছেন। বলেই দিয়েছিলেন, রাতে আসবেন। রাত দশটা নাগাদ পিনাকীকে নিয়ে আমাদের বাড়িতে এসে নিমন্ত্রণ রক্ষা করে গেছেন। অত রাতেও আমাদের বাড়িতে ওঁকে দেখতে লোকে লোকারণ্য। আমার মা আমাদের রান্নাঘরে ওঁকে বসিয়ে আলাদা করে খাইয়েছিলেন।

দুই, " দাদার কীর্তি " ছবির আউটডোর হয়েছিল শিমুলতলায় । ফেরার দিন খবর দেন, শুটিংয়ের গল্প শোনাবেন । আমরা চার বন্ধু সর্বপ্রথম " দাদার কীর্তি" ছবির আউটডোর শুটিংয়ের গল্প শোনার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলাম। 

বহু ঘটনা, বহু গল্পের সাক্ষী এই অধম। কত শিল্পীর সঙ্গে পরিচয় হয়েছে ওঁর সুবাদে। বলতে গেলে কয়েক দিনেও শেষ হবে না। দুঃখ একটাই রয়ে গেছে। ওঁর অকালমৃত্যুর পরপরই " ডাবলু"র সঙ্গে তোলা আমার চল্লিশ/বিয়াল্লিশটা ছবি আমি পাশের মাঠে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে ফেলি। মা বলেছিলেন, কি নষ্ট করলি, এখন বুঝবি না, বুঝবি সময় হলে। আজ মায়ের বলা ঐ কথাটা বড্ড বুকে বাজে।'



এই প্রসঙ্গে আমাদের কিছু প্রশ্ন আছে। কমল বাবু ছিলেন পিনাকী রায়চৌধুরীর (মহুয়া রায়চৌধুরীর বড় ভাই) বন্ধু। আমরা আশা করতে পারি যে মহুয়ার মৃত্যুর পর কমল বাবুর তার বন্ধুর সাথে যোগাযোগ ছিল। মহুয়ার মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে কমলবাবু কিছুই শুনেননি?

মহুয়ার স্বামী তিলক চক্রবর্তী আর নেই, সম্ভবত তিনি 2020 সালের সেপ্টেম্বরে মারা গেছেন। মহুয়ার বাবা আগেই মারা গেছেন। এই দুই ব্যক্তি সবই জানত কিন্তু আরও অনেকে জানে কিভাবে মহুয়ার মৃত্যু হয়েছে। মহুয়ার কাছের বেশিরভাগ মানুষ এখনও বেঁচে আছে কিন্তু মুখ খুলছে না। 'মহুয়া বিবাহিত জীবনে খুব অসুখী ছিল, মহুয়া প্রায়ই বিষণ্ণতা অনুভব করত', এইগুলি বেশিরভাগই তার সহ-অভিনেতারা বলেছেন তবে তার মৃত্যুর বিষয়ে তারা কী জানেন বা শুনেছেন তা প্রকাশ করতে কেউ প্রস্তুত নয়।

কমলবাবু হয়তো অনেক কিছু জানেন এবং একদিন সত্য বেরিয়ে আসবে।

মহুয়ার মৃত্যুর পর আনন্দলোকের সম্পাদকীয় পোস্ট

 অভিনেত্রী মহুয়া রায়চৌধুরীর মৃত্যুর পর বাংলার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় চলচ্চিত্র ম্যাগাজিনের সম্পাদকীয় পোস্ট    

From Film Kapalkundala



অভিনেত্রী মহুয়া রায়চৌধুরীর পারলৌকিক কাজের বিবরণ

 একটি দৈনিক বাংলা নিউজ পেপার (আনন্দবাজার পত্রিকা) থেকে আমরা মহুয়ার পারলৌকিক কাজের বিবরণ আমরা পেয়েছি








মহুয়া রায়চৌধুরীকে স্মরণ করলেন পরিচালক বীরেশ চট্টোপাধ্যায়

 






পরিচালক বীরেশ চট্টোপাধ্যায়ের এখনও মনে আছে মহুয়ার সঙ্গে তাঁর বাড়িতে শেষ দেখা। সেই মর্মান্তিক দিনে, সন্ধ্যায় বীরেশ মহুয়ার সাথে তার বাড়িতে দেখা করে। এমনকি পরের দিনের শুটিং নিয়েও কথা বলেছেন তারা। বীরেশ চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য নীচে দেওয়া হল।



অভিনেত্রী মহুয়া রায়চৌধুরীর শেষ শট

 

শেষ ছবি বীরেশ চট্টোপাধ্যায় পরিচালিতআশীর্বাদ চিত্রগ্রাহক শক্তি বন্দ্যোপাধ্যায় ক্যামেরা বন্দি করলেন মহুয়ার শেষ শট।



আকুল হয়ে কাঁদতে কাঁদতে ফোনে বলছে, ‘‘আমি ভাল নেই, আমি ভাল নেই। তুমি এসে আমাকে নিয়ে যাও। সে কি শুধু অভিনয় ছিল?’’

মহুয়া রায়চৌধুরী এবং প্রতিবেশীদের সাথে তার সামাজিক সম্পর্ক

 আমরা জানি যে চলচ্চিত্রের সেলিব্রিটিরা তাদের প্রতিবেশীদের সাথে দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করেন, তা 50 বছর আগে হোক বা এখন। তারা খুব কমই সামাজি...