যদি কোন অঘটন ঘটত, মহুয়ার বাবা নিশ্চয় প্রতিবাদ করতেন। কিন্তু মহুয়ার বাবাই বলেছেন, এটা দুর্ঘটনা। বাবা তো নিশ্চয় মেয়ের ফেভারেই যাবেন। তাহলে...’
এই প্রসঙ্গে মহুয়ার মাকে কিছু জিজ্ঞাসাই করা যায়নি, কারণ মহুয়ার ভাই পিনাকী বলেন, ‘প্লিজ, আমাদের ডিস্টার্ব করবেন না। মনের অবস্থা খুব খারাপ। বাবা তো যা বলার বলেই দিয়েছেন। আবার মাকে কেন?’ এমনকি ক্যালকাটা মেডিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চত্বরে আমি তিলক ও মহুয়ার বিষয়ে জানবার জন্য যখন মহুয়ার দিদি শান্তার সঙ্গে কথা বলতে যাই, তখন বাংলা চলচ্চিত্রের একজন অভিনেত্রী ও একটি ‘সংগীতগোষ্ঠীর’ পরিচালিকা বাধা দিয়ে বলেন, ‘আচ্ছা, আপনি তো ওর বাবাকে ইন্টারভিউ করেছেন, আবার এখানে কেন ওঁদের বিরক্ত করছেন?’ মহুয়ার দিদি কিন্তু আগ্রহে আমাকে বলেন, ‘না, না, আসুন আমি সব বলছি।’ দুঃখের মধ্যেও ঐ অভিনেত্রীর রূঢ় ব্যবহার হতবাক করার মতই।
হাসপাতালে অনেকেই বলাবলি করছিলেন, মহুয়ার ওষ্ঠের উপর যে গভীর ক্ষত দেখা গিয়েছে, তার কারণ নাকি মহুয়াকে মারা হয়েছিল। কিন্তু মহুয়ার বাবা নীলাঞ্জন রায়চৌধুরী সমস্ত অভিযোগের প্রতিবাদ করে বলেন, ‘একদম বাজে কথা। শুনুন, আমি যখন মেয়ের সারা গায়ে নারকেল তেল লাগাচ্ছি, তখন আমার চোখ দিয়ে জল পড়ছিল। মেয়ে বলছে, কাঁদছ কেন? আমি কি মরে গেছি? আমাকে তুমি তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে চল। আমি শ্বাস ফেলতে পারছি না। আমার এই জায়গাটা (নাক ও ওষ্ঠের মাঝের জায়গা দেখিয়ে) পরিষ্কার করে দাও। পোড়া নাকড়া-ফাকড়া লেগে ছিল। পরিষ্কার করতে গিয়ে ও (মহুয়া) বলল, ব্লেড দিয়ে তুলে দিতে। ব্লেড দিয়ে তুলে দিতে গিয়ে ওই জায়গাটা একটু কেটে গেছে। আর এইটা নিয়ে কী সব জঘন্য কথাবার্তা বলা হচ্ছে। আমি বাপ হয়ে যেখানে কিছু বলছি না, সেখানে এত কথাবার্তা বা কোন প্রশ্নই উঠতে পারে না।’
সকলের কাছেই একটা প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দেয়, যদি স্টোভ থেকেই আগুন লাগবে তাহলে দেহের সামনের অংশ থেকে পিছনের দিক বেশি পুড়ল কীভাবে? মহুয়ার বাবা বলেছেন, ‘আমার মেয়ে বিছানার উপর তাড়াতাড়ি উপুড় হয়ে পড়েছিল বলে, সামনের দিকটা বেশি পোড়েনি।’ কিন্তু পিছনের দিকে আগুন লাগল কীভাবে? এই আগুন কি সত্যি স্টোভ থেকেই লেগেছে? যদিও মহুয়া বলেছেন, স্টোভ থেকেই তাঁর দেহে আগুন লেগেছে, সুতরাং আর কোন প্রশ্ন না ওঠাই স্বাভাবিক। তবুও ঘটনার অস্বাভাবিকতায় অনেকের মন থেকে সন্দেহ কাটোনি। সন্দেহ মুছে যায়নি পুলিশের মন থেকেও। তাই তাঁরা খোঁজখবর করছেন, সঠিক কারণ জানার জন্য।
কলকাতার একটি দৈনিক কাগজে এমন খবরও বেরিয়েছিল যে, হাসপাতালে আসার পর মহুয়ার মুখ থেকে অ্যালকোহলের গন্ধ পাওয়া গিয়েছিল। শরীর থেকে কেরোসিনের গন্ধ পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু মহুয়াকে যিনি চিকিৎসা করছেন, সেই ডা: কর্নেল এইচ আর পি সিনহার বক্তব্য, ‘না, আমরা তো কোন অ্যালকোহলের গন্ধ পাইনি। তবে কেরোসিনের গন্ধ ছিল।’ ডা: কর্নেল সিনহাকে প্রশ্ন করেছিলাম, মহুয়া স্টোভের আগুনই কি অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন? উত্তরে ডা: সিনহা বলেন, ‘সেটা বলতে পারছি না। এটা বলা খুবই কঠিন।’

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন