মহুয়া রায়চৌধুরী প্রসঙ্গে তরুণ মজুমদার

 


আরো একজন অভিনেত্রী ছিলেন, যাঁর নামকরণ করেছিলেন তরুণ মজুমদার, সোনালী নামের সে মেয়েটিকে তিনি মহুয়া রায়চৌধুরী হিসেবে দর্শকের সামনে তুলে ধরেছিলেন। “আমার শ্রীমান পৃথ্বীরাজ’ ছবির জন্য প্রথমে অন্য একটি মেয়েকে বাছা হয়েছিল। মেয়েটির সবই ভাল, শুধু গলাটা একটু ধরা ধরা ছিল। মেয়েটির মা আমায় বলেছিলেন, ও কিছু না, চিকিৎসা করলেই ঠিক হয়ে যাবে। ডাক্তার দেখান হল, এদিকে আমাদের শুটিংয়ের প্রস্তুতিপর্বও চলতে লাগল। শুটিংয়ের শিডিউল ঠিকঠাক হয়ে গেছে, কাজ শুরু হতে মাত্র দশ দিন বাকি এই সময় ডাক্তার ঘোষণা করলেন, কম করে ছ’মাস লাগবে চিকিৎসা শেষ হতে। শুটিং স্থগিত রাখতে বাধ্য হলাম। শিডিউল ক্যানসেল করে সবাইকে চলে যেতে বললাম। একা অফিসে বসে আছি, এই সময় দরজায় খুট খুট শব্দ হল। খুলে দেখি, এক ভদ্রলোক এসেছেন, সঙ্গে তাঁর মেয়ে। ভদ্রলোক বললেন, দেখুন না, একটা ছোটোখাটো রোল হলেও হবে। আমি মেয়েটিকে সন্ধ্যার কাছে নিয়ে গেলাম। বললাম, সাজিয়ে-গুজিয়ে দেখ তো, কেমন লাগে! সন্ধ্যার সাহায্যে ছবির নায়িকার ভূমিকায় মহুয়াকেই সিলেক্ট করা হল।" এরপরে একটি অনিবার্য প্রশ্ন মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেল, "মহুয়ার মৃত্যু সম্পর্কে কিছু বলুন।" এর প্রতিক্রিয়ায় তরুণ মজুমদারের ম্লান, কিন্তু ঈষৎ গম্ভীর দৃষ্টিতে চোখ রেখে বুঝলাম, চিত্রপরিচালক, স্বামী, সকল সত্তার মধ্যে তাঁর ব্যক্তিত্বের একটি দিক প্রাধান্য পায়: তিনি একজন প্রকৃত ভদ্রলোক। তিনি চোখ নামিয়ে কয়েক পলক দু'আঙুলের ফাঁকে ধরে রাখা সিগারেটের ধোঁয়ার দিকে তাকিয়ে রইলেন।

একটু চুপ করে থেকে বললেন, "কী আর বলব বলুন" আমি তবু নাছোড়বান্দা। "আপনি যখন ওর মৃত্যুর খবরটা শুনলেন, তখন আপনি কোথায় ছিলেন?" "স্টুডিওতেই ছিলাম। খবর পেয়ে হাসপাতালে গেলাম। দেখি লোকে লোকারণ্য। অনেকে ওপরে গিয়ে দেখেও আসছে। আমি যাইনি। অথবা বলা যায়, আমি সে সাহস সঞ্চয় করতে পারিনি।" বলে একটু থামলেন। বললেন, "মহুয়া ওইটুকু মেয়ে, তার জীবনে এতো কষ্ট, এত জটিলতা—" একটা নিঃশ্বাস ফেলে চুপ করে কিছুক্ষণ বসে রইলেন।

'ছবি ফ্লপ হোক আর হিট হোক, কখনও শোনা যায় নি মহুয়া খারাপ অভিনয় করেছে। ওর অসম্ভব অভিনয় ক্ষমতার কতটুকুই বা এক্সপ্লয়েট করা গেছে। যে-টুকু করা হয়েছে তাতেই আমি বলতে পারি মহুয়া অসাধারণ অভিনেত্রী।'


উৎস: একটি ম্যাগাজিন থেকে: 



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ফিল্মি দুনিয়ায় মহুয়া রায়চৌধুরীর যাত্রা কীভাবে শুরু হয়েছিল

 চলচ্চিত্রে দর্শকদের মনোরঞ্জনের জন্য সৎ ছবি যাঁরা তৈরী করেন তাদের অন্যতম তরুণ মজুমদার। বালিকা বধুর সাফল্য তরুণ বাবুকে অনুপ্রাণিত করে শ্রীমান...