এখানে মহুয়া রায়চৌধুরী সম্পর্কে কয়েকজন প্রযোজক ও পরিচালকের বক্তব্য রয়েছে:-
মহুয়াকে তাঁর পরপর দুটি ছবিতে ‘হিরোইন’ করেছেন, তিনি আমায় বললেন, ‘দেখুন এসব ডিপ্রেশান-টিপ্রেশানের ব্যাপার নয়। প্রত্যেক আর্টিস্টই এককথায় ডিপ্রেসড, ও কাজ করতে করতে হাঁপিয়ে উঠেছিল। একটু শান্তি ও বিশ্রাম চাইছিল।’ টালীগঞ্জের শক্তিমান একজন সেট-মেকার এই প্রসঙ্গে বললেন, ‘মহুয়াকে আমি ওঁর ছোটবেলা থেকে দেখছি। কিন্তু ইদানীং লক্ষ্য করছিলাম, ওকে খুব ডিপ্রেসড মনে হত। ওঁর মুখের দিকে চেয়ে মনে হত ও যেন কাছে থেকেও অনেক দূরে চলে গেছে। কী একটা ফাঁক থেকে বাজিল। যখন অভিনয় করত তখন চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলত, কাজের মধ্যে ডুবে যেত। বাস্তব জীবনের কোথাও যে ওর দ্বন্দ্ব চলছে এটা বোঝা যেত না। কারণ তখন তো ও মহুয়া রায়চৌধুরী নয়, অন্য এক চরিত্র। আর ছোটবেলা থেকে দেখছি বলে, কিছু জিজ্ঞাসাও করতে পারতাম না।’
অপর একজন চলচ্চিত্রকার বললেন, ‘এই ঘটনার দিনকুড়ি কি একমাস আগে টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে জ্যোতিপ্রকাশ রায় ও সুজিত গুহের দুটো ছবির শুটিং ছিল দু শিফটে। কিন্তু মহুয়া এতই অসুস্থ হয়ে পড়েন যে, তাঁকে নিয়ে শুটিং করা সম্ভব হয়নি। এমনকী তাঁকে নার্সিং হোমে ভর্তি করতে হয়। চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত কেউ কেউ বলছেন, এই নার্সিং হোম থেকে ফিরে আসার পরই মহুয়া একটু যেন ‘ডিপ্রেসড’ ছিলেন।
তবে মহুয়ার বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সঙ্গী বলেছেন, ‘মো ডিপ্রেসড ছিলেন অন্য কারণে। বাংলাদেশে উপ্রিলা ছবিতে কাজ করার জন্য মো চুক্তিবদ্ধ ছিল? শুটিং আরম্ভ হবার কথা ছিল ৩ জুলাই থেকে। কিন্তু ১১ জুলাই পর্যন্ত মো বাংলাদেশে যাবার ভিসা পাননি। অথচ ওঁর সেক্রেটারি অসিত দাস, মেক-আপ ম্যান অনুপ (ভুট্টো) গাঙ্গুলী এবং তিলক তিনজনেরই ভিসা হয়ে গেছে, অথচ মো পাননি। স্বভাবতই ওর মনমেজাজ খারাপ থাকবেই।’
মহুয়ার দিদি শান্তা দেবীকেও জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ভিসা না পাওয়ার জন্য মহুয়া খুব ‘ডিপ্রেসড’ ছিলেন কিনা? শান্তা দেবী বলেন, ‘নিশ্চয়ই। কারণ আপনি চিন্তা করে দেখুন, বাংলার ইন্ডাস্ট্রিকে ছেড়ে ও নিজকর বাইরে যাবে না। ১৬ দিনের জন্য বাংলাদেশে ছোট নেওয়া হয়েছে ওর কাছ থেকে। অথচ সে কোন কারণেই হোক ও ভিসা পাচ্ছিল না। সেই কারণে ওর ডিপ্রেসড থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু না। আর সবচেয়ে বড় জিনিস সেটা ও খুব ভয় পাচ্ছিল যে ৭ তারিখ হয়ে গেল, কিন্তু ভিসা হাতে এল না। ১৬ দিনের কাজের মধ্যে ৭ দিন চলে গেল। শেষ পর্যন্ত যদি আটকে যায়, যাওয়া না হয়?’
তাই অন্যমনস্কতার জন্যই কি এতবড় ঘটনা ঘটে গেল?
চলচ্চিত্রকার অঞ্জন চৌধুরীকে এই প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করায়, তিনি বললেন, ‘দেখুন বাংলাদেশ বলতে তো আমরা এখনও বিদেশই বুঝি। এখন বিদেশ থেকে কাউকে আমন্ত্রণ জানালে, সবারই তো ইচ্ছে হয় ছবি করি। সেখানে ও একটা সুযোগ পেয়েও যেতে পারছে না। স্বাভাবিকভাবেই খারাপ লাগে, তার দোষটা কখন তার নয়। আমি তাই মহুয়াকে বলেছিলাম তোর এতে পড়ার কি আছে? তুই এতে পড়ছিস কেন? যেখানে তুই আছিস, সেখানে তুই টপ। নাইবা গেলি বিদেশে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন