বিবাহ পরবর্তী অভিনেত্রী মহুয়া রায়চৌধুরী সংক্রান্ত বক্তব্য প্রত্যক্ষদর্শী এবং পরিচিত ব্যক্তিদের

 

বিয়ের দিন উত্তম কুমারের সঙ্গে মহুয়া ও তিলক

জনৈকা চন্দনা
দেবী মহুয়া সম্পর্কে বিবৃতি : অসাধারণ অভিনেত্রী! কিছুদিন আমার প্রতিবেশী ছিলেন, খুব কাছ থেকে দেখেছি। মানুষ হিসেবেও বড় মাপের ছিলেন। আমার পাশের বাড়ীর একতলার ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে এসেছিলেন, ওপরের ফ্ল্যাটে পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী থাকতেন।মহুয়া আমি সমবয়সী ছিলাম। যেদিন ওর ফিল্মের কোনো কাজ থাকত না, গল্প আড্ডা হত। তখন যথেষ্ট প্রতিষ্ঠিত নায়িকা, কিন্তু কোনও অহঙ্কার বোধ ছিল না। পাড়ার যে কোনও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করত। ওর ছেলে গোলা বিকেলে আমাদের বাড়ীতেই খেলত অন্য বাচ্চাদের সাথে। তখন ' অভিমান' ছবির কাজ চলছে। পাড়ার ক্লাবের ছেলেরা আব্দার করল সিনেমাতে যেমন মেকাপ ছিল তেমনি করে পাড়াতে সবার মধ্যে আসতে হবে। মহুয়া তাই করেছিল। খুব সহজ সরল ছিল আর তার মূল্য ওকে খুব নিদারুন ভাবে দিতে হল...... !'

আনন্দের দিনে মহুয়া ও তিলক


জনৈক সরোজ মুন্সী বলেছেন: সত্যিই কি অপূর্ব অপরূপ সৌন্দর্য ও ভরাট হাসিমাখা মুখ। চোখগুলো অত্যন্ত সুন্দর। আর এত ভালো সাবলীল অভিনয় ক্ষমতার কোন তুলনা হয় না। উনার প্রায় বেশিরভাগ সিনেমা হলে দেখেছি ও মুগ্ধ হয়ে গেছি। আর এত অতুলনীয় প্রতিভাবান শিল্পীর প্রায় মুখোমুখি হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল দমদম নাগের বাজারে এক টৈলারিং এর দোকানে।‌মাষ্টার তিলকের সাথে এসেছিলেন উনার ছেলের কয়েকটি তৈরি জামা ডেলিভারী নিতে ঠিক তার কিছুক্ষণ আগে আমিও পৌঁছেছিলাম ঐ টেলারিংএর দোকানে আমার জামা প্যান্ট ডেলিভারী নেওয়ার জন্য। টেলারের অনুরোধে একটু পিছিয়ে দাঁড়ালাম মহুয়া রায়চৌধুরী ঢুকলেন‌ একমুখ পান চিবাতে চিবাতে সেই অপরূপ সৌন্দর্য মুখে ফুটে উঠেছে পাশে থেকে প্রানভরে উপভোগ করলাম। কত অল্প বয়সে এত বড় শিল্পীর অকাল মৃত্যু আজো দর্শকরা মেনে নিতে পারেনি।‌এটা কি নিছকই একটা দুর্ঘটনা না কি হত্যা এই রহস্যভেদ হলো‌‌ না। আমার মতে মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের পর উনি একমাত্র নায়িকা যিনি দর্শকদের মনে এক বিশাল জায়গা নিয়ে বিরাজ করছেন।আজকে কোন লেখা দেখলে মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে যায় উনার অভাব ভীষণ ভাবে উপলব্ধি করি। উনার আত্মার শান্তি কামনা করি।


জনৈকা পার্বতী দাসের এখনো মনে পড়ে: 'আমি তখন অনেক ছোট আমাদের সোনার পুর রাজপুর বিধান সভার অন্তর্ভুক্ত রাজপুর ময়ড়াপারা S.B.Das Road এ মা বিপদ তারিনী চণ্ডী বাড়িতে পূজা দিতে এসেছিলেন মহুয়া রায়চৌধুরী, সন্ধ্যা রায়, রঞ্জিত মল্লিক, রত্না ঘোষাল, আর ও অনেকেই এসেছিলেন মহুয়া রায়চৌধুর সঙ্গে । আমাদের বাড়ির রাস্তার উল্টো দিকে মাথা বিপদ তারিনী চণ্ডী বাড়ি । সাদা রঙের তিনটে গাড়ি থেকে সব একেক করে নামছিলেন । আমাদের বাড়ির সামনে সব ভিড় করে আছে অনেক আগেই থেকে ।। বলাই দাস মা বিপদ তারিনী চণ্ডী বাড়ি র মেজো ছেলে । এই বলাই দাস উত্তমকুমার , মাধবী মুখোপাধ্যায়, সন্ধ্যা রায় বিকাল রায় আরও অনেকেরই সঙ্গে সিনেমা করে ছিলেন ।বালাই দাদু চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন । আর আমার দিদার আপন মামা ছিলেন বলাই দাস ,। সেই সূত্রে আমার মা, কাকিমা দিদা, দিদিরা দাদা রা বলাই দাদু র কাছ থেকে জানতে পেরে পাড়ার সবাই কে খবর দেয় এবং সবাই ভিড় করে জমায়েত হয় । আমি ও বাড়ির সদস‍্যদের সাথে ছিলাম । মহুয়া রায়চৌধুরী কপাল কুন্ডলা দেখে ছিলাম খুব ছোট্ট বয়সে । আর সবার ই সিনেমা দেখেছি যারা যারা এসেছিলো। । সব গাড়ি থেকে নামছে এক এক করে মহুয়া ও নেমেছে ভিড়ের মধ্যে ভালো করে দেখবো বলে গোলে গোলে সামনে দাঁড়িয়ে আছি ।সবাই কে হাত নাড়া দিয়ে স্বাগত জানাচ্ছে মহুয়া রায়চৌধুরী ।সাবাই বলেছে মহুয়া দি তোমার অভিমান, দাদার কীর্তি আর ও অনেক ছবির নাম বলছে খুব ই অসাধারণ ছবি হয়ে ছে। তখন আমি বেশ ছোট গোলে গোলে সামনে দাঁড়িয়ে আছি হঠাৎ আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে গাল টিপে আদর করে ছিলেন । এই দৃশ্য টি আজও আমার হৃদয় মাঝে গেঁথে আছে ।কিরে সরল সাদাসিধে র মতো ব‍্যাবহার সবাই বলেছিলো এতো টুকু অহংকার নেই । আজও আমার মনে আছে মহুয়া রায়চৌধুরী ধবধবে সাদা রঙের চুরিদার পা জামা পরে এসেছিলেন। কাছথেকে দেখেছি কি অপূর্ব সুন্দর নিখুঁত পানপাতার মতো স্নিগ্ধ সুন্দর রূপের অধিকারী ও সান্ত ধীরস্থির স্বভাব সুলভ আজও সেই দৃশ্য টি হৃদয়ে ছুঁয়ে ও মনে ও চোখে ভেসে আছে । সবাই মহুয়া, সন্ধ্যা, রঞ্জিত, রত্না, আর ও যারা যারা এসেছিলো তাদের সিনেমা গুলো খুব ভালো হয়েছে বলেছিল । তাই আজও অমর হয়ে আছেন মহুয়া এই ভারত বর্ষের প্রত‍্যেক জনগণের হৃদয়ে ও ইতিহাসের পাতায় । মহুয়া তুমি এই বঙ্গে আবার যুগে যুগে ফিরে এসো যে খানেই থাকো। '


বিশ্বরূপ চট্টোপাধ্যায় বেহালায় মহুয়া রায়চৌধুরীর প্রতিবেশী ছিলেন। স্মৃতিচারণ করেছেন :
        'বেহালা পর্ণশ্রীতে বহু বছর আগে আমাদের ক্লাবের কালী পুজোর উদ্বোধন করতে এসেছিল। আজও মনে পড়ে, সদ্য শুটিং স্পট থেকে যথেষ্ট ক্লান্ত হয়ে শুধু মাত্র কথা রাখার জন্য ছুটে এসেছিল। আজও তাঁর বক্তব্য আমার মনে আছে " উপস্থিত ভদ্রমহোদয় ও ভদ্রমহোদয়া এবং আমার ভাই বোনেরা - আমি ভীষন পরিশ্রান্ত তাই বেশী কিছু বলতে পারবোনা। এই জন্য আমি ক্ষমা চাইছি। "এরপর মিনিট দশেক কথা বলে ফিতে কাটার পর্ব শেষ করে ফিরে গেল।গৌরী প্রসন্ন মজুমদারের কথায় নীতা সেনের সুরে "বাবা তারকনাথ" সিনেমা শেষ হবার পর উল্লেখিত গীতিকার ও সুরকার " রক্তজবা " নামে একটি সিনেমা করার চিন্তা ভাবনা করেন মহুয়াকে নিয়ে। ওঁর কিশোরী বেলার চরিত্রটি আমার ভাইঝিকে দিয়ে করার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রসঙ্গত জানাই, আমার নিজের ছোট ভাইয়ের মেয়ে শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি। যাই হোক,  শুটিং শুরু হোল, দুই একটা গান হোলো। মহুয়া আমার ভাইঝিকে দেখে (শ্রাবন্তী নয়) বলেছিল, " ও মা ! এ যে আমার ছেলেবেলা হুবহু। " কিন্তু দুঃখের বিষয় ছবিটি কোনো কারণে মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়।'

এক মহুয়া ভক্ত, মৃদুলা পোদ্দার বলেন :
'আমার বাড়ী বাকরাহাটে। দত্ত বাড়ী। ' কপালকুন্ডলা ' ছবির শুটিং হয়েছিল আমাদের ওখানে। আমার ঘরে মহুয়া রায়চৌধুরী ও রঞ্জিত মল্লিক মেকআপ নিয়েছিলেন। আমি নিজে হাতে ওনাদের চা করে খাইয়েছিলাম। ভীষণ উপভোগ করেছিলাম পুরো ব্যাপারটা। ওই ভালো মুহুর্তগুলো এখনও স্মৃতিতে সজীব হয়ে আছে।'

সৌরভ মধুমিতা দে লিখেছেন ' রাজপুরুষ ' ছবি ও মহুয়া রায়চৌধুরীকে নিয়ে :
'আমার দাদা প্রয়াত তপন রুদ্র এই ছায়াছবির প্রযোজক ছিলেন। সেই সুযোগে ইন্দ্রপুরী ষ্টুডিওতে শুটিং দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল।
আমি তখন খুব ছোট। এইটুকু মনে আছে যে, অনুপকুমার এর সাথে একটা শট বারবার রিটেক করতে হচ্ছিল কারণ অনুপকুমারের রসিকতায় মহুয়া দেবী হেসে ফেলছিলেন। তপন রুদ্রর আমি মামাতো ভাই, তাই আমার বাবা মা কে তপনদা মামা মামী বলে সম্বোধন করতেন। সেই শুনে মহুয়া দেবীও বলেছিলেন, তাহলে আজ থেকে আপনারা আমারও মামা মামী। এমন অমায়িক শিল্পী আজকের দিনে বিরল!'

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কমল বন্দোপাধ্যায় মহুয়া রায়চৌধুরীর 37 তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর স্মৃতি থেকে স্মরণ করেছেন

  দমদমের বাসিন্দা কমল বন্দ্যোপাধ্যায় শিল্পীকে একদম মেয়েবেলা থেকে দেখেছেন তাঁর দাদার বন্ধু হিসেবে। গত বছরও স্মৃতিচারণ করেছিলেন আজকের দিনে তাঁ...