মহুয়া রায়চৌধুরীর চোখে উত্তম কুমার

 মহুয়া উত্তম কুমারের সাথে অনেক ছবিতে অভিনয় করেছেন এবং বাঘ বন্দি খেলা তার মধ্যে একটি। এই ছবির একটি বিশেষ দৃশ্য নিয়ে মহুয়ার বক্তব্য।


উত্তমকুমারকে নিয়ে সেরকম উন্মাদনা আমার ছিল না, যতটা আমার বন্ধুদের মধ্যে ছিল । এটা তাই জন্যই বলছি কারণ ওরা উত্তমকুমারকে ওদের স্বপ্নে দেখা রাজপুত্র মনে করতো । হ্যাঁ, ওঁর ছবি নিশ্চই আমার ভালো লাগতো কিন্তু ওদের মতন এতটা বাড়াবাড়ি আমি করতে পারিনি । তবে আমার যেটা ওঁর প্রতি ছিল সেটা হলো শ্রদ্ধা, পরে যখন ওঁর সাথে কাজ করা শুরু করলাম এই শ্রদ্ধা আরও দ্বিগুণ হয়েছিল । এখনও 'বাঘ বন্দী খেলা'এর শুটিংয়ের দৃশ্যখানা ভুলতে পারবো না । ওই ছবিতে যিনি আমার বাবার চরিত্রে ছিলেন তাঁর সাথে উত্তমকুমারের একটি শট ছিল, যদিও আমি সেই শটটায় ছিলাম কিন্তু কমিউনিকেশন হবে শুধু ওদের মধ্যেই । আমার কাজটা শুধু এক্সপ্রেশনের, সংলাপ প্রায় নেই বললেই চলে । ভবেশ ব্যানার্জির দ্বারা আমাদের প্রতারিত হওয়ার দৃশ্যটা ক্যামেরায় তোলা হবে । শট শুরুর আগে আমি উত্তমকুমারকে বললাম "আমাকে তো বলা হচ্ছে ফেসের মধ্যে যাতে ঘৃণা এবং বিরক্তিসূচক এক্সপ্রেশনটা নিয়ে আসি অমুক সংলাপটা চলাকালীন ।" তখন উত্তমকুমার ওঁর হাতে ধরা স্ক্রিপ্টটার দিকে তাকিয়েই বললেন "বেশ তো, তাই করিস ।" আমি আবারও বললাম "কিন্তু সত্যি সত্যি তো দূরের কথা, মিথ্যে অভিনয় করলেও আপনাকে দেখে আমার এইধরণের এক্সপ্রেশন বেরোবে না । এবং যদি ঘৃণা ফোটানোর চেষ্টাও করি সেটা একদমই ন্যাচারাল দেখাবে না ।" এবার কিন্তু উত্তমকুমার আমার দিকে তাকালেন, বোধহয় ছবিতে আমার যে চরিত্রটি ছিল সেটার প্রতি আমার এমন ইনভলভমেন্ট দেখে উনি খুশিই হয়েছিলেন । আমার দিকে তাকিয়েই উনি বললেন "তখন তোর সামনে উত্তমকুমার না, ভবেশ বাড়ুজ্যে থাকবে । এই ভবেশ লোকটা খুব খারাপ জানিস তো । সবাই তাকে ভয় পায়, ঘৃণা করে ।" ব্যাস আর কিছু বললেন না, আমিও আর কথা বাড়ালাম না । তারপর শটটা যখন টেক হল কেন জানি না আমার মনে হলো গোটা ছবি জুড়ে আমার সেরা অভিনয়টা বোধহয় ওখানেই ছিল । ভবেশ ব্যানার্জির ওই নিষ্ঠুরতায় ভরা শঠতা দেখে খুব ন্যাচারালিই আমার এক্সপ্রেশনটা চলে এসেছিল । এবং পরিচালক যেটা আশা করেছিলেন তার থেকেও আমি ভালোভাবে উতরে দিয়েছি । শটটা শেষ হতেই উত্তমকুমার আমায় রসিকতা করে বলেছিলেন "ভবেশ বাড়ুজ্যে লোকটা খুব খারাপ তাই না রে, এই মিষ্টি সরলমনের মেয়েটার মনে কত দুঃখ দিলো বল তো ।" আমারও কি জানি তখন কি একটা মনে হলো ওঁর পায়ে হাত দিয়ে একটা প্রণাম করে বসলাম ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কমল বন্দোপাধ্যায়ের ফেসবুক পেজ থেকে মহুয়া রায়চৌধুরী সম্পর্কে

 কমল বন্দোপাধ্যায়ের ফেসবুক পেজ থেকে:- গতকাল ঠিক যেখানে শেষ করেছিলাম , ঠিক সেখান থেকেই শুরু করি । যে সময়ের কথা বলছি অর্থাৎ ...